জানুন প্রমাণ সহ বৈজ্ঞানিকভাবে মৃত্যুর পরে জীবনের কি আছে

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি না , কারন একেকজনের ধর্মবিশ্বাস একেক রকম । আবার কেউ বা ধর্মে বিশ্বাস করেন না । এখানে আমি এখন যা বলব সেগুলোর সবকিছুর স্বপক্ষে শতভাগ বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রমান আমার পক্ষেও দেয়া সম্ভব না । বরং এগুলোকে আমার ব্যাক্তিগত মতামত হিসেবেই দেখুন ।

“Life after Death” – এই টার্মটা বর্তমান সময়ের বিজ্ঞানের জন্য গলার কাটার মতো । বিজ্ঞান প্রমান ছাড়া শুধু হাইপোথিসিসকে যেমন বিশ্বাস করেনা , তেমনই সব থিওরিকে প্রোভেন ল’তে পরিনত করার জন্য হাইপোথিসিস প্রয়োজন । বর্তমান সময়ের বিজ্ঞান যেমন বিশ্বাস করে না যে মৃত্যুর পরের জীবন বলে কিছু আছে , তেমনি একেবারে উরিয়েও দেয় না ।

আমার মতে জীবনের সমাপ্তি বলতে শুধু বায়োলজিক্যাল ডেথ বুঝায় না । আদৌ কি অ্যাবসল্যুট ডেথ বলতে কিছু আছে ? ডেথ বলতে আসলে কি বুঝায় ? ধ্বংস নাকি সমার্থক কিছু ?

(দয়া করে এখানে আভিধানিক অর্থ দেখতে যাবেন না ।)

ধ্বংস বা মৃত্যু যাই বলেন , এরা যদি সমার্থক হয় তবে এখানে পদার্থবিদ্যার খুব ফান্ডামেন্টাল একটি ল’ এর কথা না বললেই না । আপনি যদি বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে থাকেন তবে আপনার অবশ্যই “শক্তির নিত্যতা” সম্পর্কে জানবার কথা । এই ল’ এর মুল ভাববস্তু হচ্ছে “জগতে মোট শক্তির পরিমান নির্দিষ্ট , এর সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই । এরা শুধু এক রুপ থেকে অন্যরুপে পরিবর্তন হতে পারে ।”

মানুস বা যে কোন জীবের বায়োলজিক্যাল বডি আসলে কি দিয়ে তৈরি ? কার্বন , হাইড্রোজেন , অক্সিজেন , নাইট্রোজেন বা অন্যকিছু ? পর্যায় সারনীর ১১৮ টি মৌলের মাঝেই নিশ্চয়ই আছে সেগুলো । এগুলোকে ভাংতে গেলে (মৃত্যু বা ধ্বংস যাই বলেন) কি পাবেন ? অনু , পরমানু ?

এর পর ?

ইলেক্ট্রন , প্রোটোন , নিউট্রন (যেগুলোকে বলা হয় মৌলিক কনিকা)

এরপরেও আসবে নিউট্রিনো , মেসন , ম্যাটার ও অ্যান্টি-ম্যাটার ।

Antimatter – Wikipedia

এরপরেও আপনি আসলে কি পাবেন ? শেষ পর্যায়ে গিয়ে হয়ত আপনি দেখতে পাবেন যে ভর ও শক্তির আলাদা কোন অস্তিত্বই থাকছে না । অর্থ্যাত আপনাকে এবার দ্বারস্থ হতে হবে মডার্ন আইন্সটাইনীয়ান ফিজিক্সের ।

শক্তির নিত্যতা মতবাদ – নিউটনীয়ান ক্ল্যাসিক্যাল ফিজিক্স

ভর শক্তির সমতুল্যতা মতবাদ – মডার্ন আইন্সটাইনীয়ান ফিজিক্স

শক্তির নিত্যতা থেকে আমরা জানি যে শক্তির ধ্বংস নেই । কিন্তু ভর শক্তির সমতুল্যতা মতবাদ একই কথা বলছে , কিন্তু একটু ভিন্ন ভাবে । ভর শক্তির সমতুল্যতা মতবাদ অনুযায়ী “মহাবিশ্বে মোট ভর + শক্তির পরিমান নির্দিষ্ট , এদের ফর্ম ইন্টার-চেঞ্জেবল । এরা নিজেদের রুপ বিনিময় করতে পারে ।”

অর্থ্যাত, এই মতবাদ অনুযায়ী ভরকে চাইলে শক্তিতে রুপান্তর করা যায় । আর এই রুপান্তরিত শক্তির পরিমান

E = MC^2 // E = energy , M = mass , C = velocity of light

সমীকরন দ্বারা নির্ধারন করা যায় ।

আসুন এবার জীবের বায়োলজিক্যাল এক্সিস্ট্যান্স নিয়ে ভাবি । ভাবুন তো আপনার পুরো এক্সিটেন্সকে কয়ভাগে ভাগ করা যায় ? দুই ভাগে !! কি কি ?

  1. আপনার বস্তুগত শরীর – (Mass / Matter)
  2. আপনার চেতনা বা কনশাসনেস (Energy)

শুরু করি বস্তুগত শরীর নিয়ে । আগেই বলেছিঃ-

“মানুস বা যে কোন জীবের বায়োলজিক্যাল বডি আসলে কি দিয়ে তৈরি ? কার্বন , হাইড্রোজেন , অক্সিজেন , নাইট্রোজেন বা অন্যকিছু ? পর্যায় সারনীর ১১৮ টি মৌলের মাঝেই নিশ্চয়ই আছে সেগুলো । এগুলোকে ভাংতে গেলে কি পাবেন ? অনু , পরমানু !”

ত্বাত্তিকভাবে ম্যাটারকে এনার্জিতে কনভার্ট করা যায় ।

এবার ভাবুন আপনার চেতনা বা কনশাসনেস নিয়ে । যেভাবেই ভাবুন বা যাই যুক্তি দেখান , কনশাসনেস ম্যাটার হতে পারেনা । ব্যাতিরেকী যুক্তি অনুযায়ী কনশাসনেসকে এনার্জি বলা যেতে পারে । কারন মহাবিশ্বের সবকিছুকে দুইভাগে ভাগ করা যায় , এনার্জি ও ম্যাটার ।

অর্থ্যাত, লজিক্যাল অ্যানালাইসিস করতে গেলে পাওয়া যায়ঃ-

“মানুসের অস্তিত্বের পুরোটাই শক্তির রুপভেদ মাত্র ।”

মানে দাড়াচ্ছে আপনার বায়োলজিক্যাল ডেথ হলেও আপনার এক্সিস্টেন্স ধ্বংস হচ্ছে না । আপনি মারা গেলেও মহাবিশ্বের কোথাও না কোথাও এক্সিস্ট করছেন । হয়ত অন্য কোন রুপে , অন্য কোন ফর্মে ।

তাহলে এবার ভাবুন আসলে মৃত্যু শব্দের অর্থ কি ? আসলেও কি অ্যাবসল্যুট ডেথ বলতে কিছু আছে ? শক্তির তো ধ্বংস নেই !

মহাবিশ্বের মোট শক্তির পরিমান নির্দিস্ট হলেও এনট্রপি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে আর ব্যাবহারযোগ্য শক্তির পরিমান কমে আসছে । এই অবস্থাকে বলা হয় মহাবিশ্বের তাপীয় মৃত্যু । তাপগতিবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী এমন একটি সিস্টেম কখনো বানানো সম্ভব না যাতে অপচয়মুলক ফলাফল গুলো রোধ করা সম্ভব । প্রতিটি সিস্টেমেই কিছু সিস্টেম লস থাকে । অর্থ্যাত, আপনার অস্তিত্ব ধ্বংস না হলেও একসময় আপনাকে নিস্ক্রিয় হতেই হবে । আর এই ব্যাপারটাকেই সম্ভবত মৃত্যু বলা হয় । জানিনা তুলনাটা যৌক্তিক কিনা , তবে এই বিষয়ের একটি চমতকার উদাহরন হচ্ছে একজন যুবকের সময়ের সাথে বৃদ্ধ হওয়া ।

“মানবদেহকে একটি থার্মাল সিস্টেমের সাথে তুলনা করলে এর নীট অপচয়মুলক ফলাফল যখন বাড়তে থাকে , মানবদেহ তখন কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে ।”

জীবন-মৃত্যু, সৃষ্টি-ধ্বংস এসব ব্যাপার আসলে হয়ত একটা রিং এর মতো । যেখানে শেষ , সেখান থেকেই আবার শুরু । উল্টোদিকে যেখানে শুরু , শেষটা সেখানেই । এই মহাবিশ্বে আপনি হয়ত পরম বা অ্যাবসল্যুট বলতে কিছুই পাবেন না , সবই আপেক্ষিক ।

মৃত্যুর পরে জীবন কেমন বা আদৌ আছে কিনা , এটা একজন মানুসের পক্ষে তখনই বলা সম্ভব যখন সে মরে গিয়ে আবার মৃত্যুর ওপার থেকে ফিরে আসবে । আপাতত আমরা এটা অসম্ভব বলেই জানি । কিন্তু এখন আপনাকে আমি NDE সম্পর্কে কিছু বলতে যাচ্ছি ।

Near Death Experience (NDE)

মেডিক্যাল সায়েন্সে মৃত্যু নিয়ে অনেক অমীমাংসিত রহস্যের একটি হলো NDE. এটি এমন একটি ব্যাপার যা সেইসব মানুসদের সাথে ঘটতে দেখা যায় যারা মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসে । স্পেসিফিক করে বলতে গেলে সোজা কথায় কোমা থেকে ব্যাক করে । কোমা থেকে রিকভারি করার কয়েকটি কেস স্ট্যাডি পড়ুন এখানে । কিন্তু কমা থেকে ব্যাক করা সবারই যে NDE হবে এমন কোন কথা নেই । NDE এর কিছু কেস স্ট্যাডি এখানে পাবেন ।

আমি ইন্টারনেট ঘেঁটে NDE সম্পর্কে যা জানতে পেরেছি , তার সারসংক্ষেপ অনেকটা এমনঃ-

নেয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স করা রোগীরা একটা আলোর সুরঙ্গ দেখতে পান । কিন্তু যারা কোমা থেকে রিকভার করতে পেরেছেন , তারা কেউ সুরঙ্গের ওপাড়ে যেতে পারেননি ।”

হয়ত সুরঙ্গের ওপাড়ে যেতে পারলে তাদের ক্লিনিক্যাল ডেথ হতো । অর্থ্যাত, ফিরে আসা রোগীদের কেউ জানেন না সুরঙ্গের ওপাড়ে কি আছে ।

NDE যে শুধু মারাত্মক ভাবে অসুস্থ মানুসের ক্ষেত্রেই হয় তাও কিন্তু না । চাইলে এটা কৃত্তিম ভাবেও করা যায় । ততকালীন বৃটিশ ভারতে এমনই একটি ভয়ংকর এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছিলেন বৃটিশ সার্জন ডঃ মরিসন । এনার সম্পর্কে ইন্টারনেট ঘেটে খুব বেশী তথ্য পাওয়া যায় না । ইনি যেটা করতেন টা হচ্ছে মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের ব্রেইনে সার্জারী করে Sylvian Fissure থেকে Spinal Cord বিচ্ছিন্ন করে রোগীকে এমন একটা অবস্থায় নিয়ে রাখতেন যাতে রোগীর শরীর ক্লিনিক্যালি ডেড , কিন্তু মস্তিস্ক কার্যক্ষম থাকত । তিনি এই রোগীদের গবেষণার জন্য পর্যবেক্ষন করতেন । নেয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স এর আরো কেস পড়েছি । কিন্তু এই কেসটা আমার কাছে রীতিমতো হরেবল , অমানবিক মনে হয়েছে ।

ওনার এই ঘটনার উপরে বানানো একটা ভিডিওর লিংক দিলাম , বিশ্বাস করা না করা আপনার ব্যাপার ।

জানি এসব আলোচনা কোনকিছুই পরিস্কার ভাবে প্রমান করে না । এই পুরো গরুর রচনাটাই একটা ব্যাতিরেকী বিশ্লেষন , খুব বেশী রেফারেন্সও দিতে পারিনি । পরিশেষে তথ্য-প্রমান , যুক্তি-তর্ক এসব তো চলতেই থাকবে ; কিন্তু সিদ্ধান্ত বরাবরই আপনার হাতে । ধন্যবাদ ।

You may also like...

Leave a Reply