ওসিডি (OCD) কী এবং ওসিডি থেকে বাঁচার উপায়

আমি মনোবিদ না। তাই এই ব্যাপারে আমার জ্ঞান নির্ভুল হবে এমন দাবি করছিনা। কিন্তু আমার নিজের অভিজ্ঞতা এবং অনুসন্ধান থেকে যা পেয়েছি তার কিছু জ্ঞান সবার সাথে ভাগ করে নিতে পারি। উত্তর টি বড় হতে যাচ্ছে।

OCD কথার অর্থ হচ্ছে Obsessive Compulsive Disorder. মানে আপনি অত্যাধিক ভাবে এমন কিছু জিনিস এর কথা ভাবছেন যা আপনাকে মানসিক ভাবে যন্ত্রণা দিচ্ছে কিন্তু আপনি সেটা একেবারেই ছাড়তে পারছেন না। ঠিক বোঝা গেল না? কিছু উদহারন দিচ্ছি যা হয়তো আপনারা ধরতে পারবেন।

স্বতিলেখা এক জন গৃহবধূ। ওনার ক্লাস 12 এ পড়া মেয়ে রোজ রাত্রি বেলা পড়তে যায়। এরজন্য ওনার খুব দুশ্চিন্তা। ওনার সবসময় মনে হয় সব ঠিক আছে তো? উনি ফোন করেন মেয়েকে কিন্তু কেও ফোন ওঠায় না। স্বতিলেখার দুশ্চিন্তা আরো বেড়ে যায়। যত খারাপ চিন্তা ভাবনা মাথায় আসা সম্বব সব কিছু সে ভেবে ফেলে। উনি মনকে বোঝাতে চায় যে এমন কিছু হবে না কিন্তু ওনার মন সেটা মানতে চায়না। তারপর ওনার সন্তান বাড়ি ফেরে তখন উনি হাফ ছেড়ে বাচে।

অমৃত বাড়ির থেকে দূরে বাসা ভাড়া করে চাকরি করে। ওনার বাড়িতে অনেক দরকারি জিনিস আছে কিন্তু উনি বেরিয়ে গেলে বাড়ি ফাঁকা। অফিস যাওয়ার সময় উনি ভালো করে দরজা বন্ধ করে। কিন্তু বসে ওঠার সময় ওনার মনে হয় সত্যি দরজা বন্ধ আছে তো? নিজেকে মনকে সে তখন কার মত সান্তনা দেয়। কিন্তু অফিসে ঢোকার সময় ওনার আবার মনে হয় সত্যি দরজা বন্ধ তো? কিন্তু এবার কোনো কিছু ওনার মন মানতে চায়না। উনি বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ির ছেলেটাকে ফোন করে নিশ্চিত হয় যে দরজা বন্ধ।

মৃণাল এর স্কুলে বেশি বন্ধু নেই। স্কুলে ঢোকার সময় যখন কাউকে হাসা হাসি করতে দেখে তখন ওর মন নিজের প্যান্টের চেনের দিকে চলে যায়। সে দেখে যে ওর চেন খোলা কিনা। কিছুক্ষন পর ওর আবার মনে হয় যে ওর চেন খোলা আছে। আবার হাত দিয়ে দেখে নেয় সে যে ওটা খোলা কিনা। এভাবে ওর চলতেই থাকে।

অনিক জয়েন্ট ফ্যামিলিতে থাকে। বাড়িতে অনেক সদস্য। কিন্তু বাথরুম তুলনায় কম। সে আরাম করে অনেক ক্ষন ধরে স্নান করতে ভালোবাসে। গান করতে করতে স্নান করার সময় ওর মাঝে মাঝে মনে হয় যে দরজা বন্ধ তো? সে বার বার ওটা চেক করতে থাকে।

শ্রেয়সি খুব নিষ্ঠাবান মেয়ে সে পরীক্ষার জন্য স্যার ম্যামরা যা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস দাগিয়ে দিয়েছে তা সব পড়ে ফেলেছে। কিন্তু পরীক্ষার আগে তার মনে হতে থেকে যদি সেই জায়গা থেকে প্রশ্ন আসে যা সে পড়েনি তবে কী হবে? যাইহোক সে পরীক্ষায় সব কমন পায় এবং আপাতত এই এই দুশ্চিন্তা থেকে নিস্তার পায়।

নাজিবুল খুব ভালো ছেলে। সবাই তাকে ভালো বলে প্রশংসা করে। সে কোনদিন কাউকে গালাগাল দে য় নি । কিন্তু সবার সামনে যখন সে কথা বলে তখন তার সব সময় মনে ভয় থাকে কি হবে যদি ওর মুখ থেকে কোনো খারাপ ভাষা বেরিয়ে আসে? যখনই ওর এই ভাবনা মাথায় আসে সে গুটিয়ে যায়। ওর Panic Attack ( আতঙ্কের আক্রমণ) শুরু হয়। ও আর কথা বলতে পরে না।

নাজিবুল খুব ভালো ছেলে। সবাই তাকে ভালো বলে প্রশংসা করে। সে কোনদিন কাউকে গালাগাল দে য় নি । কিন্তু সবার সামনে যখন সে কথা বলে তখন তার সব সময় মনে ভয় থাকে কি হবে যদি ওর মুখ থেকে কোনো খারাপ ভাষা বেরিয়ে আসে? যখনই ওর এই ভাবনা মাথায় আসে সে গুটিয়ে যায়। ওর Panic Attack ( আতঙ্কের আক্রমণ) শুরু হয়। ও আর কথা বলতে পরে না।

অভি অনেকদিন আগে ট্রেনে করে যাওয়ার সময় একজনের সাথে ঝামেলা হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সেটা থেমে যায়। কিন্তু এখন যখনই ওর ট্রেনে যাওয়ার কথা মনে আসে তখনই ওর আগের ঘটনার কথা মনে আসে। ও বার বার ভাবে একই ঘটনা এইবার ঘটলে কী হবে? ট্রেনে যাওয়ার প্রসঙ্গ আসলেই ওর panic attack শুরু হয় এবং নিজের একটা বড় সময় এই ভেবে কাটিয়ে দেয় যে সবথেকে খারাপ এইবার কী হতে পারে। সে ট্রেনকে সবসময় এড়িয়ে যেতে চায়।

অর্ক সবসময় সব কিছু সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে চায়। কোনো কিছু একটু এদিক ওদিক হলেই হয়েছে। সে নিজের কাজে লেগে পরবে। সব কিছু অর্ডারে থাকা চায়। সে সব সময় লক্ষ করে কোথাও অর্ডারের ভিন্নতা হয়েছেকিনা।

মিলি সব সময় হাত ধুতে চায়। ওর সব সময় মনে হয় হাতে জীবাণু লেগে আছে। সে সব সময় হাত জীবাণু মুক্ত রাখতে ধুতে থাকে।

কিছুটা বোঝা গেল আমরা কিসের কথা বলছি? আশাকরি আপনাদের সবারই এগুলোর সাথে কিছু না কিছু পরিচয় আছে। সবারই মনে হবে এগুলো তো খুব স্বাভাবিক এতে চিন্তার কী আছে! আর একটু চিন্তা করা তো ভালো। হ্যা! অবশ্যই চিন্তা করাভাল। সেই হিসাবে আমাদের সবারই মধ্যে কিছু না কিছু OCD আছে।

যদি আপনার OCD এরমধ্যেই কিছু হয়েথাকে তবে নিচের উদহারন গুলো একেবারেই আর পড়ার দরকার নেই। সরাসরি OCD মোকাবেলার পদ্ধতিতে চলে যান। নিচের গুলো দেখতে হবে না।

উপরের উদহারন গুলো OCD এর হলেও ওদের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। লক্ষ করে দেখুন স্বাতিলেখা, অমৃত, অনিক,মৃণাল, শ্রেয়সী সবার দুশ্চিন্তা সেখানেই শেষ হচ্ছে যেখানে তারা ফলাফল জেনে যাচ্ছে। শ্রেয়সির দুশ্চিন্তা প্রশ্ন পাওয়ার পরই শেষ হচ্ছে। ওর আর পরবর্তী পরীক্ষা পর্যন্ত কোনো চাপ নেই। কিন্তু নজিবুল, অভি , অর্ক,মিলি এরা অতটা ভাগ্যবান নয়। কারণ ওরা ফলাফল এর সাথে ওদের দুশ্চিন্তা জড়িত নয়। ওদেরকে সব সময় দুশ্চিন্তা গ্রাস করে থাকতে পারে। ফলে এদের ক্ষেত্রে OCD মারাত্মক রূপ ধারণ করতেই পারে।

OCD নামে নিরীহ পর্যায়ের হলেও কিন্তু মুশকিল তখনই হয় যখন OCD আপনার জীবনকে ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত করছে এবং আপনি সব কিছুতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। আপনার মনে হচ্ছে এই জীবন বড্ড দুর্বিষহ এবং আপনি সেটা শেষ করে দিতে চাচ্ছেন। এইবার আমি সেরকম কিছু মারাত্মক, জীবন হানিকর OCD এর কথা বলব যা মানুষকে একেবারে শেষ করে দিতে পারে।

  • Fear OCD (FOCD ): নামথেকেই বুঝতে পারছেন এটা ভয়ের সাথে জড়িত। এটা মারাত্মক OCD গুলোর মধ্যে সবথেকে বেশি হয় মানুষের মধ্যে। এরOCD তে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সব সময় যেটাকে বেশি ভয় পায় সেটাকে আটকাবার জন্য সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলে। মিলির বার বার হাত ধুয়ে জীবাণু মুক্ত রাখার প্রবণতা এর মধ্যেই পরে। কেউ কেউ ঘরের সবজিতে কীটনাশক এর ভয়ে বার বার ধুতে থাকে। গৃহস্থলে ব্যবহৃত স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ জিনিস গুলো ( অ্যাসিড , কীটনাশক ,ইঁদুর মারার বিষ) এই সব যতটা সম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করে। এদের মনে সবসময় এটকাই চিন্তা হয় “যদি কোনোভাবে ” সেগুলো আমার ক্ষতি করে দেয়। প্যাকেটজাত কোন খাবার কেনার আগে এরা দেখে নেয় যে এতে ব্যাবহিত রাসায়নিক কোনো ভাবে ক্যান্সার ডেকে আনতে পারে কিনা। বারবার তারা সেটা চেক করতে থাকে। অনেকে টাওয়ার এর রেডিয়েশন এর জন্য সেটার কাছে যায়না। তারা সবসময় সেটার থেকে ক্যান্সারের ভয়পায়। কেউ কেউ কোথাও রক্ত পরে থাকতে দেখলে খুব ভয় পেয়েযায় যে ওটার থেকে ওনাদের এইডস আক্রমণ করতে পারে। কেউ কেউ বাড়িতে কুকুর বেড়াল রাখতে চায় না এই ভেবে যে ওদের থেকে কোনো মরণ ব্যাধি চলে আসতে পারে। লক্ষ্য করে দেখুন তারা সবাই জানে এই ক্ষেত্রে কোনটা যোক্তিক আর কোনটা অযোক্তিক কিন্তু “যদি কোনোভাবে “ সব সময় তাদেরকে আক্রমণ করে যায়। বারবার এইসব “Intruisive Thought ” তাদেরকে বিব্রত করতে থাকে। তারা compulsion দিয়ে সেটাকে আটকাবার চেষ্টা করে সাময়িক স্বস্তি পায় কিন্তু এই compulsion গুলো ocd কে আরো বাড়িয়ে দেয়। Intruisive Thought , compulsion নিয়ে পরে আলোচনা করছি।কিন্তু এখন বুঝে রাখুন “পরে থাকা রক্ত থেকে আমার এইডস হতে পারে ” এইটা হল Intruisive Thought যা আপনাকে দুশ্চিন্তা (anxiety ) তে ভরিয়ে দেয়। আর “পরে থাকা রক্ত থেকে এইডস হতে পারে না। “ ইটা হল compulsion যা আপনাকে সাময়িক স্বস্তি দে য়। কিন্তু যদি আপনি ocd আক্রান্ত হন তবে “পরে থাকা রক্ত থেকে এইডস হতে পারে না। “ এইটা আপনাকে কিছুক্ষনের জন্য স্বস্তি দিলেও আপনার মন এইডস আক্রান্ত হওয়ার দুশ্চিন্তায় আবার ভরে যাবে। [1]
  • Harm OCD ( Accident) : এই OCD তে আক্রান্ত মানুষ সব সময় ভয় পায় যে হয়তো তাদের কোনো ভুলের জন্য অন্যদের কিংবা তার কোনো বড় ক্ষতি হতে পারে। তারা সবসময় নিজের কাজ সঠিক ভাবে কি করেছে এই দুশ্চিন্তায় ভোগে। এই ক্ষেত্রে এদের compulsion হল বার বার চেক করা ওরা কাজ গুলো ভালোভাবে করেছে কিনা। বাড়িতে গ্যাস ওভেন বন্ধ করা হয়েছে কিনা , গাড়ি চালাতে গিয়ে কাওকে চাপা দিয়ে দিলাম কিনা , বাড়ির গেটে তালা দিলাম কিনা এসব এর অন্তর্গত। বুঝতেই পারছেন অমৃত এই ocd তে আক্রান্ত।
  • Harm OCD (On Purpose ): এতে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা সবসময় দুশ্চিন্তা করে যে হয়তো ইচ্ছা করে এমন কাজ করে ফেলবে যা অন্যের ক্ষতি করবে। বন্ধুর সাথে কথা বলতে বলতে তাকে মুখের ওপর ঘুষি মেরে দেওয়া , উঁচু জায়গা থেকে কাউকে ইচ্ছা করে ফেলে দেওয়া। এর সব থেকে মারাত্মক উদহারণ হচ্ছে কোনো মা ভাবছে সে তার সদ্য জন্মানো শিশুকে হয়তো ছুরি দিয়ে হত্যা করে ফেলবে। তাই সে ছুরি দেখলেই ভয় পেয়ে যাচ্ছে। তাদের মনে সব সবসময় এই ভাবনা চলতে থাকে যে যদি তারা ছুরি ধরতে পারে তবে তারা নিজের সন্তানকে হত্যাও করতে পারে। এই OCD আক্রান্ত দের মধ্যে তারাও পরে যারা সব সময় ভাবে যে তারা হয়তো আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে বিব্রতকর কিছু জিনিস করে ফেলবে। কেউ চার্চে বসে আসে হয়তো তার মনে হল সে হটাৎ করে চিৎকার করে উঠতে পারে। কেউ মুসলিম পাড়া দিয়ে যাচ্ছে হটাৎ তার মনে হল কী হবে যদি সে জয় শ্রীরাম বলে ফেলে চিৎকার করে। কেউ কেউ আবার ভয় পায় তারা হয়তো কোনো বাজে গলাগাল সবার সামনে দিয়ে ফেলবে। নাজিবুল যে এই OCD তে আক্রান্ত সেটা ভালোই বুঝতে পারছেন। “আমি এটা কোনো ভাবেই করতে পারিনা ” এই compulsion দিয়ে কিছুক্ষনের জন্য নিস্তার পাওয়া যায়। কিন্তু একটু পরের অন্যান্য OCD এর মতন Intruisive Thought আবার ফিরে আসে। আবার Anxiety তে আক্রান্ত হয় ওসিডি আক্রান্তরা। [2]

বুঝতেই পারছেন আমরা আরো মনের অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। অনেকের এই গুলো মানসিক ভাবে আঘাত করতে পারে। তাই সাবধান করা থাকলো।

  • Sexual Obsessions OCD: এই ক্ষেত্রে যৌনতা বিষয়ক Intruisive Thought মানুষকে গ্রাস করতে থাকে যা তারা কখনোই করবে না। কিন্তু তারা কিছুতেই এর থেকে নিস্তার লাভ করতে পারে না। এইসব Intruisive Thought তাদেরকে আরো আবিষ্ট করে ফেলে মানসিক ভাবে একেবারে শেষ পর্যায়ে নিয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে Sexual Obsessions গুলো সাধারণত শিশু ,পরিবারের সদস্য , রক্তের সম্পর্কের কেউ , কোনো জন্তু , হিংস্রতা ইত্যাদি নিয়ে হয়ে থাকে। কেউ কেউ ভয় পায় যে সে হয়তো কখনো কাউকে ধর্ষণ করে দিতে পারে। তাদের যৌনতা বিষয়ক Intruisive Thought যখন শিশু ,পরিবারের সদস্য , রক্তের সম্পর্কের কেউ এর মধ্যে বিরাজ করে তখন OCD আক্রান্তরা দিশেহারা হয়েগিয়ে লজ্জা এবং Anxiety তে ভুগতে থাকে। কারোর কারোর প্যানিক এটাক শুরুহয়ে যায়। কেও ডিপ্রেশনে চলে যায়। অন্যান্য ocd এর মতনই compulsion ব্যবহার করে লাভ হয়না Intruisive Thought আবারো ফিরে আসে। [3]
  • Sexual Orientation OCD : মারাত্মকের মধ্যে মারাত্মকতম। এতে আক্রান্তরা সব সময় সন্দেহ করে তারা সমকামী নয় তো? তারা সমকামী সম্পর্কে জড়িয়ে পরবে না তো ? এই সব সন্দেহ এই OCD কে চালিত করে। এই OCD কোনো ভাবে শুরু হওয়ার পর আক্রান্তরা Obsessive ভাবে নিজের লিঙ্গের ব্যাক্তিদের দিকে লক্ষ্য করতে থাকে। তারা এটা চেক করতে থাকে যে তারা তাদের দেখে অকর্ষিত হচ্ছে কিনা। এই ঘটনা কে Checking বলে। যেটা কিনা compulsion এর মধ্যেই পরে যা OCD কে আরো মারাত্মক করে দেয়।এর পরবর্তীা পর্যায়ে তাদের মনে সম লিঙ্গের বিভিন্ন যৌন ক্রিয়ার দৃশ্য Intruisive Thought হিসাবে আসতে থাকে যা তাদের কে বিদ্ধস্ত করে তোলে। আগের দিন যে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষিত হচ্ছিল সে এখন নিজের যৌনতা কে নিয়েই সন্দেহ করছে। বুঝতেই পারছেন তাদের অবস্থা কোন পর্যায়ে চলে যায়। তারা যতই নিজের অতীতের ঘটনা মনে করে নিজের বিসমকামিতা প্রমান করতে যায় ততই সেটা compulsion হিসাবে কাজ করে এবং OCD এর নিয়ম মেনে তাতে কোনো লাভ হয়না। এই বিশেষ OCD তে compulsion এর তিনটে পর্যায় আছে এগুলো হল checking,avoidance,reassurance . checking, মানে আগেই বলেছি। এতে আক্রান্তরা সম লিঙ্গের দিকে Obsessive ভাবে তাকিয়ে বুঝতে চায় তারা ওদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে কিনা। অনেকে সম লিঙ্গের যৌন ক্রিয়া এবং বিষম লিঙ্গের যৌন ক্রিয়া দেখে এবং তাদের মধ্যে তুলনা করতে থাকে যে তারা প্রথমটায় কোনো ভাবে আকর্ষিত হল কিনা। তাদের একটা নির্দিষ্ট উত্তর চায় যা তারা কখনোই পাবে না ocd জন্য। এই compulsion তাদের anxiety আরো বাড়িয়ে দেয় ocd এর নিয়ম মেনে। Reassurance হল ocd আক্রান্ত হওয়ার আগের নিজের প্রেমিক /প্রেমিকা /ক্রাশ এর কথা অথবা বিষম লিঙ্গের প্রতি আকর্ষিত হওয়ার কথা মনে করে নিজেকে নিশ্চিত করা যে সে সমকামী নয়। কিন্তু যেহেতু এটাও compulsion তাই এটাও কাজ করে না এবং ocd আরো মারাত্মক হতে থাকে। এর পরে আসে avoidance যেখানে ওসিডি আক্রান্তরা নিজের ভয় থেকে দূরে গিয়ে মানসিক শান্তি পেতে থাকে। তারা সম লিঙ্গের থেকে দুরুত্ব বজায় রাখে এবং খবর,টিভি, যেখানে সমকামিতার প্রসঙ্গ আসতে পারে সেখান থেকে নিজের দুরুত্ব বজায় রাখে। কিন্তু এই compulsion ও কাজ করে না এবং কিছু দিন পর Intruisive Thought আবার ফিরে আসে। এই ওসিডি থেকে কোনো ভাবে নিস্তার পেলেও পরবর্তীতে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা এটা ভাবতে থাকে যে তারা হয়তো ভবিষ্যতে সমকামী হয়েযেতে পারে অথবা opposite gender এর প্রতি আগ্রহ হারাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই Intruisive Thought আরো মারাত্মক হতে থাকে এবং আক্রান্ত কে মানুষিক ভাবে শেষ করে দেয় যে সঠিক চিকিৎসা না হলে আত্মহত্যার কথা ভাবে। যে সমস্ত ব্যাক্তিরা ভয় পায় যে তারা সমকামিতে পরিনিত হতে পারে তাদের ocd কে HOCD . এবং সে সমস্ত সমকামীরা ভাবে যে তারা বিষমকামী হতে পারে তাদেরকে SOCD আক্রান্ত বলা হয়। [4]
  • Pedophilic OCD ( P-OCD): যারা শিশুদের প্রতি যৌন ভাবে আকর্ষিত হয় তাদের কে Pedophilic বলে। কিন্তু যারা Pedophilic OCD তে আক্রান্ত তারা ওদের থেকে সম্পূর্ণ ভাবে আলাদা। এই OCD তে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা সব সময় ভাবে যে তারা হয়তো শিশুদের প্রতি যৌন ভাবে আক্রান্ত অথবা যৌনভাবে আকৃষ্ট হতে পারে। এই ভাবনার ওপর ভিত্তি করে তাদের OCD আক্রান্ত ব্রেন তাদের কে Intruisive Thought দিতে থাকে যা তাদের কে চূড়ান্ত অস্বস্তি ,উদ্বেগ,এবং সর্বোপরি লজ্জায় ফেলে দেয়। তারা এই ভাবনায় নিজের দিনের একটা বড় অংশ কাটিয়ে দেয়। ফলে অন্যান্য কাজে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে থাকে। এই OCD চূড়ান্ত মারাত্মক আকার ধারণ করে যখন আক্রান্ত ব্যাক্তিদের নিজের সন্তান নিয়ে Intruisive Thought আসতে থাকে। অন্যান্য ওসিডি এর মতনই এর compulsion আছে যা দিয়ে তারা সাময়িক স্বস্তি পেতে চায়। আক্রান্ত ব্যক্তি শিশুদের দিতে তাকিয়ে Check করতে থাকে সে তাদের দিকে আকৃষ্ট কিনা। এবং এই সময় যদি নিজের গোপনাঙ্গে কোনো রকমের সংবেদন অথবা নড়াচড়া লক্ষ্য হলেই তারা ভয় পেয়েযায় এবং প্যানিক এটাক শুরু হয়ে যায়। এর পর আসে reassurance . তারা সবসময় নিজেকে প্রমান করতে থাকে যে তারা Pedophilic নয়। অন্যদের মতামত নিয়ে কিছুটা সান্তনা পেতে থাকে। কিন্তু যদি আপনি আগের লেখা গুলো পড়ে থাকেন তবে বুঝতেই পারবেন যে এইসব reassurance এ কোনো কাজ হয়না বরং সেটাকে আরো বাড়িয়ে তোলে। আমেরিকাতে Pedophilic OCD তে আক্রান্ত এর সংখ্যা অনেক বেশি। এই আক্রান্ত দের কে মনোবিদ এর উপদেশ মতন নিজের শিশু দের থাকে অনেক সময় দূরেও রাখতে হয়। তবে বুঝতেই পারছেন এটা কতটা মারাত্মক।[5]

OCD এর এইরকম আরো অনেক ভাগ আছে তবে এগুলো কে আলাদা ভাগ না বলে OCD এর আলাদা থিম বলা উচিত। কারণ আসল সমস্যা হল সেই OCD .

OCD এর ক্রিয়া পদ্ধতি:

এতক্ষন উত্তরপড়ার ফলে আসা করছি আপনি বুঝেই গিয়েছেন যে কিভাবে OCD কাজ করে। উপরের চিত্রটি সেটা ভালো করেই বুঝিয়ে দিচ্ছে। প্রথমেই আসে Obsessive Thought / Intruisive Thought. যেমন :

  • ঘরের দরজা আটকেছি কী ?
  • কাউকে ইচ্ছা করে আঘাত করে ফেলবো না তো ?
  • সবার সামনে আত্ম নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গালাগাল দিয়ে ফেলবো না তো ?
  • আমি এইডস আক্রান্ত হয়ে যাবো না তো পরে থাকা রক্তের জন্য ?
  • সমকামী না তো ? আমি কি সমলিঙ্গ দের দেখে আকৃষ্ট হয়কি?
  • বাচ্চা দেড় দেখে যৌন ভাবে আকৃষ্ট হবে না তো ?

এই সব Obsessive Thought থেকে নিস্তার নেয়। এগুলো আক্রান্ত দেড় কে আরো আক্রান্ত করে (Anxiety ) তুলবে যে তারা সাময়িক স্বস্তির জন্য Compulsion এর আশ্রয় নেবে। এই Compulsion গুলো হল :

  • কাউকে ফোন করে জেনে নেওয়া যে দরওয়াজা আটকানো কিনা।
  • নিজেকে সান্তনা দেওয়া যে সে কখনোই কাউকে আঘাত করতে পারবে না।
  • নিজেকে বোঝানো যে সে নিজে কখনোই আত্ম নিয়ন্ত্রণ হারাবে না।
  • নিজেকে বোঝানো যে এইডস এতো সহজে হয় না।
  • পুরোনো ঘটনা মনে করে নিজেকে বোঝানো যে সে সব সময় বিপরীত লিঙ্গ দেখে আকৃষ্ট হত।
  • নিজেকে বোঝানো যে সে বাচ্চা দের দেখে কখনোই আকৃষ্ট হতে পারে না।

এই Compulsion গুলি আক্রান্ত ব্যাক্তিদের কে সাময়িক সুখ দেয়। কিন্তু ocd আক্রান্ত ব্যাক্তিদের কে এটা রোগ মুক্ত করতে পারে না। ocd মানেই হল doubting disesses . মানে আপনি সবসময় সন্দেহ করে যাবেন। OCD আক্রান্ত দেড় ক্ষেত্রে এই Doubt Compulsion দিয়ে কমানো গেলেও OCD আক্রান্ত ব্রেন আরো doubt নিয়ে আসতে থাকবে যতক্ষণ না আপনি আবার Anxiety তে আক্রান্ত হন। Compulsion ব্যবহার করলে OCD আরো মারাত্মক ভাবে ফিরে আসে। এইভাবে এই সাইকেল চলতেই থাকে।

OCD আক্রান্ত হওয়ার কারণ :

এর কারণ হিসাবে নির্দিষ্ট কিছুর প্রমান পাওয়া যায়নি। তবে ছোটবেলার কোনো আঘাতমূলক ঘটনা,কিংবা বাবা মায়ের একই রকম OCD থাকা এর কারণ হতে পারে। অনেকেই আবার বিশ্বাস করে OCD মানুষের ব্রেনে নির্দিষ্ট রাসায়নিক serotonin এর ঘাটতি। অর্থাৎ মস্তিষ্কের chemical Imbalance OCD এর জন্য দায়ী। প্রথমের ঘটনা গুলি এটাকে সুধু আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। [6]

OCD এর চিকিৎসা :

এইবার আসল উত্তরে আসি ওসিডি এর নানান সমাধান আছে যেগুলো নিজেই অনেক ক্ষেত্রে করা যায়। কিন্তু যদি OCD মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যায় তবে একজন OCD স্পেশালিস্ট এর কাছে যাওয়ায় বাঞ্চনীয়।

কিন্তু একটা কথা মনে রাখা উচিত OCD এর ফলে আপনি আরো নানান রকম মানসিক রোগে ভুগতে পারেন। তবে সেগুলোকেই OCD এর জন্য দায়ী করা ঠিক না। OCD যাদের মারাত্মক আকার ধারণ করে তাদের ছোট বেলার থেকেই সাধারণত ওসিডি এর লক্ষণ থাকে যা আগে প্রকাশ পায়নি। ফলে বুঝতেই পারছেন OCD আপনা আপনি আপনাকে ছেড়ে যাবে না। এর জন্য আপনাকে তীব্র ইচ্ছা শক্তি এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতি মানতে হবে।

Cognitive Behavioural Therapy (CBT): এটা এক অত্যন্ত সফল পদ্ধতি OCD সামলাবার জন্য। এই পদ্ধতি আপনাকে আপনার চিন্তার পদ্ধতি পাল্টাতে সাহায্য করবে। যে সব ঘটনার জন্য আপনার মনে Intruisive Thought আসছে , সেগুলো কে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে শেখাবে। এই পদ্ধতি তে OCD আক্রান্তরা Intruisive Thought থেকে আসা Anxiety প্রতিরোধ করা শিখে যায়। বিশদে জানার জন্য এই নামে গুগলে সার্চ করতে পারেন। আর Cognitive Behavioural Therapy এর ব্যাবহারিক প্রয়োগ জানতে YouTube এ অনেক ভিডিও পেয়েযাবেন।

Exposure and Response Prevention’ (ERP): OCD চিকিৎসায় আরেকটা সফল পদ্ধতি হল ERP . এখানে আপনাকে মনের মধ্যে ধীরে ধীরে সেই সব ভাবনা ভাবতে হবে যা আপনাকে জ্বালাতন করে চলেছে। আপনি সেই সব অবস্থায় নিজেকে কল্পনা করবেন যেখানে আপনি ভয় পাচ্ছেন। সেই সব জিনিস যা আপনাকে Anxiety তে আক্রান্ত করেছিল , ERP এর মাধ্যমে আপনি সেগুলো অতিক্রম করতে পারবেন এবং নিজের thought process বদলে ফেলতে পারবেন। এমন একটা সময় আসবে যখন anxiety অনুভব করবেন না। তবে এগুলো একজন OCD স্পেশালিস্ট এর কাছ থেকে করায় ভালো। কারণ তিনি ভালো করে বুঝবে কোনটা ঠিক হবে আপনার জন্য। যদি OCD স্পেশালিস্ট এর কাছে যাওয়া সম্ভব না হয় তবে এই ব্যাপারে youtube এ অনেক ভিডিও পাওয়া যাবে। সেগুলো দেখায় যায়। তার সাথে সাথে ফেসবুকে বা অন্য কোথাও কোনো OCD সাপোর্ট গ্রূপে ডুকে পড়া যায় সেখানে আপনার মতন আরো অনেক আক্রান্ত দেড় কে একসাথে পেয়ে যাবেন। নিজেদের মধ্যে আলোচনায় অনেক সুবিধা পাবেন। [7]

OCD থেকে বাঁচতে সবার আগে যে Intruisive Thought আসছে তাকে Accept করতে হবে avoid করা যাবে না। কিন্তু তার সাথে সাথে এটাও মনে রাখতে হবে না OCD আপনার জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আপনার ভাবনার উপর একমাত্র আপনারই অধিকার আছে।

সর্বশেষ কথা OCD আমাদের সবার মধ্যেই থাকে কিন্তু যাদের ক্ষেত্রে সেটা মারাত্মক আকার ধারণ করে তাদের কে এর চিকৎস্য করতে দেরি করা উচত না। এটা ফেলে রাখলে এমন আকার ধারণ করতে পারে যে আপনার জীবনের এক বড় অংশ এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলো। মনে রাখতে হবে OCD শেষ কথা নয়। সবারই জীবনে সুখী হওয়ার অধকার আছে।

সবাই ভালো থাকবেন। নিজের শরীরের সাথে সাথে নিজের মনেরও খেয়াল নেবেন। যদি এই লেখা টা কারোর কোনো কাজে এসে থাকে তবে ভাববো লেখা সার্থক।

You may also like...

Leave a Reply