একজন নব্য-বিবাহিত যুবকের কোন বিষয়গুলি দ্রুত শিখে নেওয়া উচিত?

১। সত্যই সন্দেহজনক কিছু না থাকলে আপনার স্ত্রীর অতীত সম্পর্কে কখনই জিজ্ঞাসা বা জানার চেষ্টা করবেন না।

২। আপনার (সম্ভাব্য) পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের ছায়াছবিতে দেখা পেশাদার অভিনেতাদের যেমন দক্ষতার সাথে যৌনক্রীড়া করতে দেখেছেন তেমন আপনার স্ত্রীর কাছে আশা করবেন না। প্রাপ্তবয়স্কদের ছায়াছবির অভিনেতারা পেশাদার, কিন্তু আপনার স্ত্রী আপনার কাছে একজন অনন্য মহিলা, ঠিক যেমন আপনি তার কাছে।

৩। আপনার স্ত্রী যদি আপনার সাথে শারীরিক ক্রিয়ায় চূড়ান্ত অন্তরঙ্গ এবং স্পষ্ট বক্তা হন তবে সেটাকে মাপকাঠি ধরে তার সমগ্র চরিত্র বিচার করতে যাবেন না। আপনি তাঁর স্বামী হওয়ায় তিনি সব দিক থেকে একমাত্র আপনার সঙ্গেই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার দাবি রাখেন।

৪। যদি আপনার স্ত্রী যৌনমিলনের শুরুতেই রক্তপাত না করেন তবে তার অর্থ এই নয় যে তিনি কুমারী নন বা তিনি দুশ্চরিত্র। আপনার কোনও রকমের সিদ্ধান্তেই কখন ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং শারীরবৃত্তির অনুযায়ী তিনি রক্তপাতও করতেও পারেন বা নাও করতে পারেন, প্রত্যেক মানুষের শরীরের বৃত্তি ভিন্ন এবং তাই এমন কোন বাঁধাধরা বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই, যে রক্তপাত না হলে তিনি কুমারী নন বা তিনি দুশ্চরিত্র।

৫। আপনি আপনার স্ত্রী যদি প্রথম প্রথম একে অপরের শারীরিক আকাঙ্ক্ষাকে সন্তুষ্ট করতে না পারেন তবে চিন্তা করবেন না। আপনারা ধীরে ধীরে প্রত্যেকের মতই ঠিকই শিখে যাবেন। কোনও সমস্যা হলে দক্ষ একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেষ্ঠ উপায়।

৬। যদি আপনার স্ত্রী কোনও দরিদ্র পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হন বা তিনি স্বল্প শিক্ষিতও হন, তবুও তাকে সম্মান করতে শিখুন।… তার সামনে তার পরিবার বা মাতাপিতা সম্পর্কে কখনও নেতিবাচক কথা বলবেন না। মনে রাখবেন, আপনার বাবা-মা চিরকাল থাকবেন না, তবে আপনারা দুজনেই কিন্তু আপনাদের জীবনের একমাত্র অংশীদার।

৭। যদি তিনি অন্তর্জাল প্রযুক্তির জন্য সময় ব্যয় করেন, তবে তার মোবাইলে উঁকি মারবেন না এবং তিনি কার সাথে কথা বলছেন তার সম্পর্কে গুপ্তচরবৃত্তি শুরু করবেন না। প্রত্যেক মানুষেরই তাদের গোপনীয়তার রক্ষার অধিকার আছে।

৮। আপনার স্ত্রীকে তার আকাঙ্ক্ষাগুলি, ভবিষ্যতের কোনও পেশাগত পরিকল্পনা বা তার আবেগ সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করুন এবং তার এই ইচ্ছা পূরণে সামর্থ অনুযায়ী তাকে সমর্থন করার চেষ্টা করতে হবে। এটি করলে আপনি অবশ্যই তার মন জয় করবেন।

৯। আপনার স্ত্রীকে শিক্ষাপ্রাপ্ত হতে সাহায্য করুন এবং কখনই উপার্জন করতে বা যদি তিনি উপার্জন করেন এবং বিয়ের পরে তার মা-বাবা বা পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে চান, বাধা দেবেন না। আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে তার মা-বাবাকেও, তাকে শিক্ষিত করার জন্য প্রচুর অর্থ, সময় এবং শক্তি ব্যয় করতে হয়েছিল যাতে সে আপনাকে বিয়ে করতে সক্ষম হয়, তাই তাঁরাও কর্তব্য নিজের মা-বাবাকে বৃদ্ধ বয়সে প্রয়োজনে সাহায্য করা।

১০। আপনার মধ্যে ঝগড়া হতেই পারে, এবং সময়ের স্রোতে আপনি এবং আপনার স্ত্রী উভয়ই যৌবন, সৌন্দর্য্য তথা সুঠাম শারীরিক গঠন এবং শক্তি হারাবেন, সেটাই স্বাভাবিক। মনে রাখবেন — কেউই নিখুঁত হয় না এবং প্রতিটি সম্পর্কের একটি তিক্ত সময় থাকতেই পারে। আপনার আবেগ এবং যুক্তি দিয়ে সেই তিক্ত সময়টি কাটিয়ে উঠতে হবে।

১১। আপনার মা আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে যেমন বোঝেন, আপনার স্ত্রী আপনার মায়ের মতো একইভাবে বুঝবেন এবং যত্ন নেবেন, কখনই তা আশা করবেন না।… একজন সেরা বন্ধুর মতো তাকে আপনার পরিবারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে সহায়তা করুন, তাকে সময় দিন, কারণ তিনি আপনার বাড়িতে নবাগত। আপনি তাঁর বাড়িতে থাকতে যাননি।

১২। আপনার কাজে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শিখুন এবং কখনই ভেজা তোয়ালে/গামছা বিছানায় বা টেবিলে রাখবেন না, আপনার স্ত্রী কিন্তু পরে আপনাকে নোংরা বলে দোষ দিতে পারেন।

১৩। সবসময় স্ত্রীর নীরবতাকে সম্মতির লক্ষণ বলে গ্রহণ করবেন না, তিনি আপনার সংসারে নবাগতা, লজ্জা সংকোচে তিনি না চাইলেও চুপ করে থাকতে পারেন, নিজের স্ত্রীকে জানার চেষ্টা করুন। আপনি যদি কোনও হতাশার জন্য চুপ করে থাকেন তবে কখনই তাকে আপনার মায়ের অনুভূতির মতো আচরণ করার আশা করবেন না।

১৪। তাকে বাড়ির কাজে সাহায্য করুন। আপনার স্ত্রীকে বিলাসিতা বা দামি উপহার সরবরাহ করার চেয়ে কিন্তু একসাথে সময় কাটান সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

১৫। তার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করুন, তার জন্য হাসবেন, তার হাত ধরে রাখতে শিখুন এবং আপনার অপছন্দ সত্ত্বেও, আপনার স্ত্রী যদি দেখতে পছন্দ করেন, তবে তার সঙ্গে একসাথে দূরদর্শনে ধারাবাহিক নাটক বা ছায়াছবি দেখুন।

১৬। সর্বদা স্ত্রীর সাথে নিজেদের আর্থিক অবস্থা অথবা সংকট নিয়ে আলোচনা করুন, কারণ এই ব্যাপারে তার মস্তিষ্ক কিন্তু আপনার চেয়ে ভাল কাজ করতেই পারে এবং মহিলারা সাধারণত আবেগপ্রবন বিষয়ে আপনার থেকে আরও দৃঢ় হন। তার ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনাকে সম্মান করুন।

১৭। আপনার স্ত্রীর প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া আপনার একান্ত দায়িত্ব এবং এটি একটি সফল বিবাহিত জীবনের মূল চাবিকাঠি।

১৮। আপনার ক্ষমা করার অপরিসীম ক্ষমতাটি জানা অত্যন্ত প্রয়োজন, যা আপনার স্ত্রীকে সম্ভাব্য বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের হাত থেকে বাঁচতে অথবা উদ্ধার করতে সহায়তা করবে।

১৯। আপনার নিজের স্ত্রীর কাছে নিজেকে সমর্পন করা আপনার স্ত্রীর মন জয় করার সবচেয়ে বড় কৌশল এবং সর্বচ্য সফল উপায়।

২০। আপনার স্ত্রী সবসময় চান যে আপনি তাকে পরিচালনা এবং চালিত করুন, তাই তাকে হতাশ করবেন না।

You may also like...

Leave a Reply